প্রিয় ভাই, বোন, শিক্ষার্থী, শুভাকাঙ্খী, শিক্ষক ও অভিভাবকগণ

ক্যান-এ্যাম ইমিগ্রশনের পক্ষ থেকে আপনাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। আসন্ন ”স্বাধীনতা দিবসের” শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি, আশা করি মহান সৃষ্টি কর্তার কৃপায় ভালো আছেন।

ক্যান-এ্যাম ইমিগ্রেশান অনেক  বছর যাবৎ সুনামে সাথে অভিবাসন বিষয় পরামর্শ দিয়ে আসছে। অভিবাসন বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর। অত্যাধুনিক বিশ্বে অভিবাসনের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এই অভিবাসন খাত কে সচল রাখতে ভিসা এজেন্সিগুলির অসামান্য ভূমিকা রয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর প্রচুর শিক্ষার্থী দেশের বাইরে পড়াশুনার জন্য পাড়ি জমাচ্ছেন, যার সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ অতিক্রম করেছে। ইউনেস্কো এডুকেশন এর তথ্যমতে বর্তমানে ৫৩ টিরও (মালয়েশিয়া, আমেরিকা, অষ্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, জার্মানি, কানাডা, ইন্ডিয়া, জাপান, সৌদি আরব, সাউথ কোরিয়া, দুবাই, সাইপ্রাস, ফিনল্যাণ্ড, ইতালি, তুরস্ক, কাতার, নিউজিল্যান্ড, পোল্যান্ড, ওমান, নেদারল্যান্ড, নরওয়ে, চীন, ডেনমার্ক ইউক্রেইন্, অস্ট্রিয়া, লিথুনিয়া, বেলারুশ, এস্তোনিয়া, মিশর, বেলজিয়াম, স্পেন, লাতভিয়া, সাউথ আফ্রিকা, চেক রিপাবলিক, আয়ারল্যান্ড, জর্জিয়া, রোমানিয়া, আজারবাইজান, পর্তুগাল, শ্রীলংকা, ইরান, সুইজারল্যান্ড, হাঙ্গেরী, ব্রুনাই, বুলগেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া,  জর্দান, কাজাকিস্তান, স্লোভেনিয়া, সার্বিয়া, মরক্কো, গ্রিস ও লুক্সেমবার্গ) বেশি দেশে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা দেশের বাইরে পড়াশুনার জন্য পাড়ি জমাচ্ছেন। কানাডিয়ান ব্যুরো ফর ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনের তথ্যমতে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ শিক্ষার্থী রপ্তানিতে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে চতুর্থ অবস্থান অর্জন করেছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে  বর্তমানে  ১ কোটি ৩ লক্ষ মানুষ ১৬২ টি দেশে অভিবাসী শ্রমিক হিসাবে কাজ করছে।  ফরেন রেমিট্যান্স অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ১১ তম এবং দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে তৃতীয় অবস্থান অর্জন করেছে এবং ২০১৯ ইং সালে আমাদের বৈদেশিক আয়ের পরিমান ছিল প্রায় ১৭.৩ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যুরো অফ ইস্টাটিক্স এর তথ্যমতে প্রতিবছর প্রায় ১৫ লাখের বেশি মানুষ বিদেশে ট্যুরিস্ট হিসাবে যান। বাংলাদেশের উন্নতম অর্থনৈতিক আয়ের উৎসই হচ্ছে  অভিবাসন খাত।

বাংলাদেশ ছোট্ট একটি দেশ, আয়তনের দিক থেকে বিশ্বে যার ৯২ তম কিন্তু জনসংখ্যার দিক থেকে অষ্টমতম। এই অতিজনসংখ্যার দেশে নিজের একটি কর্মসংস্থান তৈরী করা খুব সহজসাধ্য বিষয় নয়। বেকার সমস্যা বাংলাদেশের অন্যতম একটি মৌলিক সমস্যা। এই সমস্যার সমাধান শুধু সরকার একার পক্ষে সম্ভব নয়। দরকার সমন্বিত উদ্যোগ।

বর্তমানে বাংলাদেশে লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত বেকার আছে। অনেকে পড়াশুনা শেষ করে চাকুরী পেছনে দোড়াচ্ছেন। আবার অনেকেই চাকুরী আশায় ঘরে বসে দিন পার করছে। অনেকে জীবনে অনেক জব সার্কুলার খুঁজেছেন, চাকুরীর জন্য আবেদন করেছেন, ইন্টারভিউ দিয়েছেন কিন্তু চাকুরী পাচ্ছেন না, চাকুরী খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত। জীবন ও পরিবারের কাছেও এখন বোঝা হয়ে গেছেন।

আমি তাদেরকে অনুরোধ করবো হতাশাগ্রস্থ হয়ে হাতগুটিয়ে বসে না থেকে কিছু একটা শিখুন বা কিছু একটা শুরু করুন। দেখবেন ঠিকই আপনি একটি পথ পেয়ে গেছেন। আমি বলবো পড়াশুনা বা শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু চাকুরী করা নয়। শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য হলো জ্ঞান, দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও মূল্যবোধ তৈরা করা। হতাশ হওয়ার কিছুই নেই। পৃথিবীর সব পথ বন্ধ হয়ে গেলেও, সৃষ্টিকর্তা ঠিকই আপনার জন্য একটি পথ খোলা রেখেছেন। সেই পথটিই আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে।

আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি আমাদের এই অভিবাসন সেক্টরে সৎ ও দক্ষ লোকের প্রচুর অভাবে আছে। সৎ ও দক্ষ লোকের ওভাবেই মানুষের মনে নেতিবাচক ধারণা তৈরী হচ্ছে আর মানুষের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এই সেক্টরের জন্য বড় হুমকি বলেও আমি মনে করি। তাই বলবো আপনি যদি দক্ষ হয়ে থাকেন তবে আপনিও  এই অভাবের জায়গাটা পূরণ করতে পারেন। আর যদি কোনো অভিজ্ঞতা না থাকে তবে কাজ শিখুন, প্রয়োজনে ট্রেনিং নিয়ে দক্ষ হয়ে এই সেক্টরেই ভবিষ্যতে ক্যারিয়ার গড়ুন।

খুব স্বাভাবিকভাবেই অনেকেই আপনাকে বলবে ভাই আর কোন কাজ পাইলেন না ? এই লাইনে আসলেন। এই লাইনে অসাধু লোকের অভাব নেই। এই লাইনে যতসব……..যিনি আপনাকে একথা বলছেন তিনি ঐভাবেই পৃথিবীকে বা পৃথিবীর মানুষকে দেখছেন। তবে শুধু এই লাইনেই নয়। সব লাইনেই অসাধু লোক আছে। শুধু কম আর বেশি। আপনি ভালো কিছু করেও তো দেখতে পারেন, তাই নয় কি ? কিন্তু পারা না পারা এটি একটি  চ্যালেঞ্জের বিষয়। কে কতটুকু চ্যালেঞ্জ নিয়ে নিজেকে দাঁড় করতে পারে এটাই বড় কথা। আসলে আপনি পৃথিবীকে কোন চোখ দিয়ে দেখছেন এটাই বড় কথা। অর্থাৎ আপনার দৃষ্টিভঙ্গির কথা বলছি, আপনার দৃষ্টিভঙ্গি যেমন, আপনি ঠিক তেমনটাই দেখবেন। সবাই একরকম নয়। সুতরাং কারও কথাই কান না দিয়ে নিজের লক্ষ্যে এগিয়ে যাবেন এটাই প্রত্যাশা করি।

আমি জানি গুরু দায়িত্ব আপনার ওপর অর্পিত হয়েছে, ফলে আপনি অনেক ব্যস্ত সময় পার করছেন।  আমরা আপনার চলার পথের সঙ্গী হতে চাই। তাই মনে করি, ছাত্র জীবন থেকেই শুরু হোক পরিবার, দেশ ও জাতির জন্য অবদান রাখা। আমরা ভাই, বোন, শিক্ষার্থী, শুভাকাঙ্খী, শিক্ষক ও অভিভাবকগণ ও বেকারদের সেই পথ চলার ক্ষুদ্র সঞ্চালক হতে চাই।  আমরা বাংলাদেশের  ৬৪ টি জেলা পর্যায়ে শিক্ষিত ও সৎ লোক ”স্থানীয় পরামর্শক” হিসাবে নিয়োগদানের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আপনি চাইলে স্থানীয় পরামর্শক হিসাবে আমাদের সাথে কাজ করতে পারেন যা আপনার বাড়তি আয়ের অপার সম্ভাবনার পথ উন্মেচিত করবে আর চলমান জীবনকে আরও গতিশীল করবে। আপনাদের সুপরামর্শ ও সহযোগিতা  আমাদের চলার পথকে আরও সু:দৃহ ও সহজ করবে, ইনশাআল্লাহ।

আসুন আমরা বেকারত্বের অভিশাপ থেকে নিজেকে রক্ষা করি এবং পরিবার, দেশ ও জাতির সেবাই নিজেদেরকে নিয়োজিত করি, আপনার কর্মজীবনের সফলতা কামনায় ক্যান-এ্যাম ইমিগ্রেশান আপনার পাশে আছে ও থাকবে।

আবেদন করুন : Application Form

আবেদনের ৭ দিনের মধ্যে ঢাকা হেড অফিসে এই 01970- 254 254 (24/7 Hours) নাম্বারে যোগাযোগ করে সশরীরে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

ধন্যবাদান্তে,

সি.ই.ও
ক্যান-এ্যাম ইমিগ্রেশান।
তাং: ১১/০৩/২০২০ ইং

error: Content is protected !!